গ্রামে রান্নার কাজে এলপিজি (LPG) ব্যবহারের চেয়ে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার অনেক বেশি বাস্তব সম্মত
রান্নার কাজে LPG এর ব্যবহার ক্রমবর্ধমান। এলপিজি (LPG: Liquid Petroleum Gas) এর ব্যবহার তার নিজ গুনেই বেড়ে চলেছ। গ্রামের মানুষ প্রথাগত ভাবে রান্নার কাজে শুকনো কাঠ ব্যবহার করে এসেছে। কিন্তু ব্যর্তমানকালে এলপিজি (LPG) এর বিভিন্ন সুবিধার জন্য ক্রমাগত ভাবে গ্রামে রান্নার কাজে কাঠের বদলে এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে। যদিও এলপিজি ব্যাবহারের ক্রমবর্ধমান গতি শুধু যে ব্যবহারের সুবিধার জন্য বাড়ছে তা নয়, তাকে ত্বরান্বিত করছে ভারত ও রাজ্যসরকার গুলির বিভিন্ন যোজনা যা এলপিজি ব্যবহারকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করেছে যেমন: পি এম উজ্জ্বল যোজনা ইত্যাদি।
আজকের যে বিষয় তা হলো আমার মতে গ্রামে রান্নার কাছে এলপিজি বাব্যহারে চেয়ে কাঠ ব্যবহার অনেক বেশি বাস্তব সম্মত। আমি কেন তা বলছি একে একে তা বোঝাচ্ছি।
প্রথমে আসি এলপিজি (LPG) ব্যাবহারে ব্যাক্তিগত সুবিধা গুলি কি কি:
- এলপিজি ব্যবহার করলে রান্নাঘর এবং রান্নার কাজে ববহৃত বাসন পত্র অনেক বেশি পরিষ্কার পরিছন্ন থাকে।
- জ্বালানি (এক্ষেত্রে এলপিজি) সংরক্ষণের জন্য (storage এর জন্য ) জায়গা কম লাগে।
- তাড়াতাড়ি আগুন জালানো যায়। (Lighter এর একটি click এ আগুন ধরে যায়)।
এখন দেখা যাক সরকার গুলি কেন এগুলি (LPG সিলিন্ডার) ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করছে:
- Clean Energy তাই পরিবেশ দূষণ কম হয়।
- Government গুলি LPG এর উপর কর (tax) চাপাতে পারে তাই যত এলপিজি ব্যবহার হবে ততই করের (tax) পরিমাণ বাড়বে।
- এলপিজি এর ব্যবহার বাড়লে কাঠের জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা কমবে তাই গাছ কাটার পরিমাণ কমবে।
- অন্য অনেক রাজনৈতিক এবং রাজনীতি ও ব্যবসার কালো অভিসন্ধি বা আঁতাত থাকতে পারে। (Business-politics nexus)
এবার আসি কাঠের জ্বালানি ব্যবহারের ব্যক্তিগত অসুবিধা :
- কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করলে ধোঁয়া হয় যা রান্না ঘরকে পরিষ্কার করে দেয়।
- রান্নার কাজে ব্যবহৃত বাসন পত্রের তলা কালো হয়ে যায় যা এলপিজি ব্যবহার করলে হয় না।
- অনেক সময় প্রচুর ধোঁয়া হয় যা রাঁধুনিকে শারীরিকভাবে কষ্ট দেয়।
- সংরক্ষণের (storage) জন্য অনেক জায়গা লাগে।
কাঠের জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের অসুবিধা:
- কাঠের জ্বালানি ব্যবহারের ফলে প্রচুর ধোয়া হয় যা পরিবেশ দূষণ করে।
- কাঠের জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সরকার গুলির কোন অর্থনৈতিক লাভ হয় না।
- কাঠ সংগ্রহ করার জন্য গাছ কাটতে হয় যা পরিবেশ দূষণকে বাড়ায়।
এবারে মূল বক্তব্যে আসা যাক যে কেন আমরা গ্রামে রান্নার জন্য কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করব:
- গ্রামের দিকে যেহেতু চারদিকে গাছপালা রয়েছে তাই কাঠ সংগ্রহের তেমন টাকা লাগেনা যেমনটি এলপিজি ব্যবহারে লাগে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে কম খরচ হয়।
- এলপিজির ভান্ডার নির্দিষ্ট তাই এলপিজি ব্যবহার করতে করতে একদিন ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু গাছের ক্ষেত্রে তা নয়। যেহেতু গাছ আমরা লাগাতে পারি তাই যদি কিছু গাছ কাটি আবার তার বদলে যদি গাছ লাগিয়ে দিই তাহলে পৃথিবীতে গাছের সংকট তথা জ্বালানি সংকট কোনদিনই হবে না।
- কাঠের জ্বালানি ব্যবহারের একটি বড় সমস্যা হলে ধোঁয়া। কাঠের জ্বালানিতে ধোঁয়া হবেই কিন্তু ব্যাপার হল সেটি যেন রান্নাঘরে না থাকে এবং রাঁধুনীকে শারীরিকভাবে কষ্ট না দেয়। তার জন্য যেটা দরকার তা হলো উনুনের নকশার (design এর) আধুনিকীকরণ এবং ধোঁয়া নির্গমনের পথের আধুনিকীকরণ।
ধোঁয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে রান্না ঘরের বাইরে পাঠাতে পারলে রান্নার কাজে গ্যাসের মতো এটিও রান্নাঘর কে পরিষ্কার রাখবে।
আমি দেশের প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানী দের কাছে অনুরোধ করবো তাঁরা যেন এইরকম কোনো উনুন তৈরির কাজে এগিয়ে আসেন। - কাঠের উনুনের রান্না করলে, রান্নার কাজে ব্যবহৃত বাসন পত্রের তলায় কালি পড়ে যায়। গ্রামে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল উপলব্ধ। তাই পরিষ্কার করার জন্য খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। তাছাড়া, কালী যাতে সহজে পরিষ্কার করা যায় তার জন্য বাসনের তলায় ছাই মাখিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এই ছাই কাঠ পুড়েই তৈরী হয় ফলে নতুন করে কিছু কেনার বা তৈরী করার নেই।
- কাঠের জ্বালানির যে ধোঁয়া পরিবেষ দূষণ ঘটায় তা নতুন গাছ লাগিয়ে মিটিয়ে ফালা যেতে পারে। ফলে এটি যে পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক তা নয়।
- আমার মতে এটা অর্থনৈতিক এবং পরিবেশ বান্ধব ও বটে। কারণ আমাদের দেশে এলপিজি এর বেশির ভাগ টাই বিদেশ থেকে আনা হয়, সেখান থেকে আনার জন্য এবং বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হয় সাথে সাথে যে পরিবহনের মাধ্যমে এগুলি আসে সেগুলি ও বায়ু দূষণ ঘটায়। গ্রামে কাঠের জ্বালানি সংগ্রহ ও তা রান্না ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বরং অনেক কম পরিবেশ দূষণ ও অর্থনৈতিক ব্যয় কম হয়।
তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে, গ্রামে কাঠের জ্বালানি ব্যবহার এলপিজি এর চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব সম্মত।
শুধু একটা কথা মনে রাখতে হবে যে গাছ কাটার সাথে সাথে পর্যাপ্ত পরিমান গাছ লাগাতে হবে।
Comments
Post a Comment